মুহতারাম দ্বীনদার ভাই ও বোনেরা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। রমাদান সমাগত। যুগপতভাবে বিশ্বমানবতা ইতিহাসের এক বিশেষ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আজ মানুষের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। মানবীয় শক্তি-সামর্থ, সক্ষমতা আর অর্জন বলতে কিছুই যেন অবশিষ্ট নেই। একই সময়ে দিশেহারা মানুষের দুয়ারে হিমশীতল মৃত্যুদূত প্রতিনিয়ত কড়া নাড়ছে- যার ভিতরে আমরাও কী নেই? সেটিকে ঈঙঠওউ-১৯ মহামারি হিসেবে জেনেছি। এ সময়ে ব্যক্তিগত ও ঈমানের দায়বদ্ধতা থেকে বসে থাকতে পারি না।
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমাদের দেশেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। থমকে গেছে জীবনের গতি। ইতোমধ্যেই নিরন্ন মানুষের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে শুরু করেছে। আপনাদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যেই সীমিত পরিসরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে- দেশের বেশকিছু স্থানে মাস্ক, স্প্রে-মেশিন বিতরণ এবং খাদ্যসহায়তা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ফান্ড পাওয়া সাপেক্ষে সেটি ৩-৬ মাস মেয়াদি হতে পারে। প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজ যথাযথভাবে অব্যাহত রাখা এবং করোনার কারণে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে নি¤œলিখিত কার্যμম বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি-
ইয়াতিম, পরিচয়বিহীন, অসহায় ও অটিষ্টিক/প্রতিবন্ধি শিশু প্রতিপালন ও পুনর্বাসন প্রকল্প চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার প্রোগ্রাম (ইয়াতিম খানা)।
আলোকিত শিশু: বস্তিবাসি ও ছিন্নমুল পথশিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাসহ জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা (কুরআন শিক্ষা)
যাকাতের অর্থে পরিচালিত “আদর্শগ্রাম প্রকল্প”: দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প।
সমন্বিত মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র: অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি।
জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা: কিশোর-কিশোরী, বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের জন্য জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা(কুরআন শিক্ষা) কর্মসূচি।
দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তাদান: বন্যা, খরা ও তীব্রশীতসহ যে কোন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তাদান ও পুনর্বাসন কর্মসূচি।
দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে মাসিক জিজ্ঞাসা পত্রিকা।
শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প: হিফজ, মাদরাসা ও স্কুলের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প।
প্রিয় সুধি! আপনারা জানেন, করোনার কারণে গোটা দুনিয়া তথা দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি স্মরণকালের মধ্যে নাজুক। বিশেষ করে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত এবং দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ খুবই বিপদগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে আমরা কেউই ভালো নেই। তারপরও আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে সম্পদ ও স্বচ্ছলতা দিয়ে দয়া করেছেন, তারা যেন মন্দার কারণে যাকাত ও দান-সদাকাকে ২.৫% মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখেন। বিগত সময়ের চেয়ে দানের পরিমাণ বাড়িয়ে আরশের মালিকের কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা চেয়ে নিতে পারেন। বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়াতে কত স্পষ্টই না কুরআনের এ আহবানÑ “আসলে তোমাদের প্রচেষ্টা নানা ধরণের। কাজেই যে (আল্লাহর পথে) ধন-সম্পদ দান করেছে, (আল্লাহর নাফরমানি থেকে) দূরে থেকেছে এবং সৎবৃত্তিকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তাকে আমি সহজ পথের (সীরাতুল মুস্তাকীমের) সুযোগ-সুবিধা দেবো। আর যে কৃপণতা করেছে, আল্লাহ থেকে বেপরোয়া হয়ে গেছে এবং সৎবৃত্তিকে মিথ্যা গণ্য করেছে। তাকে আমি কঠিন পথের সুযোগ-সুবিধা দেবো। আর তার ধন-সম্পদ তার কোনো কাজে লাগবে যখন সে ধ্বংস হয়ে যাবে? নিঃসন্দেহে পথনির্দেশ দেয়া তো আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত (আল কুরআন, ৯২: ৪-১২)এ আমরা যাকাতের অর্থ কেবল আল-কুরআনের নির্দেশিত খাতেই ব্যয় করে থাকি। আপনার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রদেয় যাকাত ও দান-অনুদান অধিকতর উত্তম পদ্ধতিতে ও সচ্ছতার সাথে ব্যয় এবং কাক্সিক্ষত সুফল পেতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে এ মহতী কাজে শরীক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
চেয়ারম্যান
মসজিদ কাউন্সিল
১৪৪১ হিজরী